‘করোনা’ কালীন মানসিক চাপ

stress

‘করোনা’ মহামারী আমাদের সবার উপর বেশ মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। কি ভাবে এই চাপ লাঘব করা যেতে পারে – সে বিষয়ে প্রখ্যাত কিছু সংগঠন / ওয়েবসাইটের পরামর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশে কার্যউপযোগী, একটি রূপরেখা আমরা প্রণয়নের চেষ্টা করেছি .. আশাকরি পাঠকরা উপকৃত হবেন :

১) “রুটিন” অনুসরণ করুন – ‘করোনা’য় মৃত্যুর মিছিল আর ভয় ছাড়াও, মানসিক চাপের একটি বড় কারণ হলো, আমাদের প্রাত্যহিক কর্মজীবন, ঘর আর সামাজিকতার নিয়মানুবর্তীতায় ঘটে যাওয়া চরম ওলোট-পালট ! আমাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে এই “বিশৃঙ্খলা” থেকে পরিত্রানের উপায়- আরেকটি নতুন “রুটিন” তৈরি ও অনুসরণ করা যা নতুন পরিস্থিতির সাথে আমাদের খাপ খাইয়ে নেবে। ঘুম থেকে ওঠা , ব্যায়াম,খাওয়া, বাগান করা, গোসল, ফোন-আড্ডা, টিভি তথ্যাদি সব এই রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। . সবচেয়ে ভালো হয় এই ‘রুটিন’ যদি আগের ‘রুটিন’-এর কাছাকাছি হয় ! 

২) কর্মঠ থাকুন – মানসিক সুস্থতা বহুলাংশে নির্ভর করে শারীরিক অবস্থার উপর। তাই শরীরকে সুস্থ ও চালু রাখতে অলস না থেকে আনন্দময় পরিশ্রম করুন, গৃহস্থালির কাজ, বাগান করা কিংবা ব্যায়াম করুন। শরীর ঝরঝরে লাগবে, সময়ও কাটলো আর কিছু ঘরের / বাগানের কাজ-ও হয়ে গেলো : ) তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম করে আবার অসুস্থ হবেন না যেন।

৩) মন-কে ‘ছুটি’ দিন – সারাক্ষন টিভি- রেডিও, ইন্টারনেটে বা ফোনে করোনা’র উপর ব্যস্ত না থেকে মাঝে মধ্যে রিল্যাক্স করার চেষ্টা করুন – পরিবারের সাথে মজা করুন, টিভিতে আনন্দদায়ক / মিলনান্তক সিনেমা দেখুন, পছন্দের গান শুনুন / গল্পের বই পড়ুন।

৪) পরিবারকে সময় দিন – প্রাত্যহিক দৌড়ের / ব্যস্ততার বিপরীতে এ এক অনন্য সাধারণ অনির্ধারিত এক টুকরো অবসর- এর সর্বোত্তম ব্যবহার হবে -পরিবারকে সময় দেয়ায়। বাচ্চাদের সাথে খেলা, গল্প বলা, রান্না, ইত্যাদির মাধ্যমে স্নেহ-ভালোবাসা আর বিশ্বাসের বন্ধনটাকে মজবুত করার সুন্দর সুযোগ এটি।

৫) যোগাযোগে থাকুন – বাইরে যাওয়া বন্ধ থাকায় শরীরিক সাক্ষাৎ সম্ভব নয় … কিন্তু ফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট , চ্যাট, ম্যাসেন্জার, স্কাইপ … এগুলো তো সবই আছে। বন্ধু, সহকর্মী, আত্মীয়-পরিজন – নিয়মিত আলাপ করুন এদের সাথে, বিশেষত যাদেরকে বেশি আপন আর বিশ্বস্ত মনে হয় – আলাপ করে প্রশান্তি মিলে । পাশের প্রতিবেশীর-ও খোঁজ খবর নিন – তবে ‘নিরাপদ দূরত্বে’ থেকে ।

৬) “অভিশাপ” নয়, “সুযোগ” ভাবুন – “করোনা-বন্দিত্ব’র এই সময়টুকুকে “অভিশাপ” না ভেবে “সুযোগ” হিসাবে ভাবুন …. নতুন কিছু শিখার ‘সুযোগ’, করার সুযোগ। সৌখিন পাচক ? ….. রান্না শিখুন, পরিবারের জন্য পছন্দের ডিস রাঁধুন, ‘সাহিত্যিক’ ভাবটা আছে ? …. এই সুযোগ .. – লিখে ফেলুন জীবনের প্রথম বই-এর পাণ্ডলিপি। অথবা … ইন্টারনেটে পছন্দের ‘কোর্স’ করুন, নতুন ভাষা শিখুন।

৭) ধর্ম চর্চা – ধর্ম চর্চা ব্যক্তির মন ও মানষের সমৃদ্ধি ঘটায়, প্রশান্তি প্রণয়ন করে। তাই ‘করোনা’ প্রদত্ত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি ইবাদত করা যেতে পারে। যে হেতু মহামারী’র পরিস্থিতিতে মসজিদে (বা অন্য উপাসনায়ে) জমায়েত সম্ভব নয় .. তাই গৃহে পরিবার নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় এবং ধর্মীয় আলোচনা / শিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ এটি। “কোরান খতম”ও দেয়া যেতে পারে।

৮) কর্মজীবীরা সহনশীল হোন –  বাসায় আবদ্ধ থাকায়  – কর্মজীবীদের জন্য  করোনা’র  একটি  নেতিবাচকতা সম্ভবনা হলো ‘গৃহ-কলহ’ (family dispute). পাস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা ,বিশ্বাস আর সহমর্মিতার মাধ্যমে সবাইকে করোনা’র এই কঠিন সময়ে সহনশীল থাকতে হবে।

 

 

Leave a Reply

RSS
Follow by Email
Facebook