‘করোনা’ প্রতিরোধে করণীয়

hand wash

# নিজেকে করোনা’র সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাকে সর্বাধিক গুরুত্ম দিতে হবে।

  • লেগে থাকা জীবাণু ধ্বংসের জন্য দুই হাত যথাযথ ভাবে সাবান-পানি দিয়ে অথবা এলকোহল-বেইসড হ্যান্ড ক্লিনার দিয়ে নিয়মিত ধুয়ে শুকাতে হবে।
  • মুখের ভিতর, নাকে বা চোখে হাত না দেয়ার অভ্যাস করতে হবে। না হলে হাতের জীবাণু এসবের ভেতর দিয়ে শরীরের শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করবে।
  • ঘরের দরজার কড়া, হাতল, কম্পিউটার, পানির ট্যাপ, টিভি রিমোট, ইলেকট্রিক সুইচ … ইত্যাদি যা সবাই স্পর্শ করে / ব্যবহার করে সেগুলো সাবান পানি বা এলকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।

বাসা থেকে না বেরুনোই ভালো। আর একান্ত প্রয়োজনে বের হলেও –

  • যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে বেরুতে হবে (‘মাস্ক’ পরা ইত্যাদি)
  • ‘ব্যস্ত অফিস সময়ে’ বের না হয়ে যখন ট্রাফিক / মানুষজন কম … এমন সময়ে বের হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
  • জন-সমাবেশ (gathering ) এড়াতে হবে – পথে ঘাটে বাজারে ঘেঁষা ঘেষি না করে সর্বত্র পরস্পরের মধ্যে ন্যূনতম ৫ ফুট (৩/৪ হাত) দূরত্ম বজায় রাখতে হবে।
  • হাঁচি -কাশি দেয়া ব্যাক্তিদের থেকে দূরে থাকাটা উত্তম।
  • দৈহিক সংস্পর্শ – হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি ইত্যাদি সম্পূর্ণ নিষেধ।
  • নিজের হাঁচি-কাশি আসলে টিস্যু / রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে কিংবা জামার হাতায় মুখ গুঁজে কষ্টে হবে যাতে মুখের লালা ইত্যাদি বাতাসে না ছিটায়। টিস্যু যত্র -তত্র না ফেলে ‘ময়লার বাক্সে ফেলতে হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকুরীর প্রয়োজনে কর্মস্থলে অবস্থান করতে হলে –

  • সহকর্মীদের থেকে নিরাপদ দূরত্ম (৩/৪ হাত) দূরত্ম বজায় রাখুন, (হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি ইত্যাদি সম্পূর্ণ নিষেধ) .
  • অপ্রয়োজনীয় মিটিং, দৈহিক উপস্তিতি বাদ দিন … ফোন বা ইন্টারনেট-এ যোগাযোগ রাখুন।
  • প্রতিদিন ব্যবহারের আগে নিজের চেয়ার -টেবিল যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ‘জীবাণু নাশক’ স্প্রে দিয়ে মুছে নিন।
  • ঘন ঘন সাবান বা এলকোহল-বেইসড ‘স্যানিটাইজার’ দিয়ে হাত ধুতে ভুলবেন না এবং মুখে, নাকে,চোখে যেন হাত না যায়।
  • অফিসের দরজা-জানাল খোলা রাখুন রোদ /বায়ু চলাচলের জন্য।
  • অফিসে খাবার একত্রে না খেয়ে ,নিজের ডেস্কে বসে বা অন্য কোথাও একাকী খান।
  • কাজ শেষে বেরুবার আগে আরেকবার সব মুছে ‘জীবাণুমুক্ত’ করে নিন (বিশেষ করে -যদি পরবর্তী শিফটে অন্য কেউ আপনার একই জায়গায় কাজ করে).

# বাইরে থেকে ফেরার পর

  • ঘরে ঢুকার আগে বাইরের পোশাক, জুতা ইত্যাদি বাইরে রাখতে হবে, , সঙ্গের জিনিস পত্র, জুতা ইত্যাদি সাবান-পানি বা এলকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার ছিটিয়ে সম্ভাব্য জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
  • হাত সাবান দিয়ে ভালো ভাবে (২০ সেকেন্ড ) ফেনা করে ধুয়ে শুকাতে হবে, সাবান পানি না থাকলে এলকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার-ও ব্যবহার করা যেতে পারে।

# করোনা মহামারীর এই সংকটময় সময়ে গৃহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা-ও গুরুত্বপুর্ণ

  • ঘরের দরজা জানাল খোলা রেখে পর্যাপ্ত রৌদ্র / আলো বাতাস চলাচল করাতে হবে।
  • বাইরের পোশাক আশাক, জুতা, জিনিস পত্র বাইরে থাকাই ভালো।
  • ঘরের দরজার কড়া, হাতল, কম্পিউটার, পানির ট্যাপ, টিভি রিমোট, ইলেকট্রিক সুইচ … ইত্যাদি যা সবাই স্পর্শ করে / ব্যবহার করে সেগুলো সাবান পানি বা এলকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
  • সাধারণ কাপড় ধোয়ার পাউডার এই জীবাণু ধ্বংসে সক্ষম – তাই বাইরে থেকে ফেরার পর পোশাক-আষাক সতর্কতার সাথে ধুয়ে ফেলে রোদে শুকাতে হবে।

# চিকিৎসা, সেবা সুশ্রষার কিংবা অন্য প্রয়োজনে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সরাসরি যোগাযোগ বা সংস্পর্শের প্রয়োজন হলে

    • PPE (Personal Protective Equipment)- বিশেষ নিরাপত্তা পোষাক, দস্তানা (Full Hand Gloves), মাস্ক, পা ঢাকা জুতা – ইত্যাদি অবশ্যই পরিধান করতে হবে।
    • – লক্ষণ দেখা যাক না যাক … ন্যূনতম চৌদ্দ (১৪) দিন নিজেকে ঘরে ‘স্বতঃ -আবদ্ধ’ (Self Isolation)-বা একাকী বন্দি করে রাখতে হবে.. যাতে শরীরে ভাইরাস আসলেও তা যেন আর করো শরীরে সংক্রমিত না হতে পারে।
    • সেলফ আইসোলেশন-এর সময় উপরে আলোচিত ব্যক্তিগত / গৃহস্থালি পরিচ্ছন্নতাও   এবং ‘সামাজিক দূরত্ম’ ইত্যাদি কঠোর ভাবে অনুসরণ করতে হবে।

মনে রাখা দরকার – করোনা ভাইরাস-এর এখনো কোনো টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি এবং যেহেতু .. স্বাভাবিক সুস্থ মানব দেহে এটি “সর্দি-কাশি -জ্বর -ব্যথা” ইত্যাদি ছাড়া তেমন কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না .. তাই ১৪ দিনের সেলফ কোয়ারেন্টাইন-ই সর্বোত্তম ব্যবস্থা বলে বিশ্বে সর্বত্র গ্রহণযোগ্য। তবে স্বাসকষ্ট কিংবা অন্য যে কোনো রকমের জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই হাসপাতালে বিশেষিত চিকিৎসা নিতে হবে।

Leave a Reply

RSS
Follow by Email
Facebook